ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এবার সিরিয়া থেকে রকেট হামলা হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ মে) সিরিয়ার দিক থেকে অন্তত তিনটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। খবর আল জাজিরার।

তবে ওই হামলায় কোনো হতাহত বা ইসরায়েলের কোনো স্থাপনা ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। অবশ্য ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, রকেটগুলো সিরিয়ার ভেতরেই পতিত হয়েছে। এতে তাদের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।

এই হামলা কারা চালিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা এই হামলা চালাতে পারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ মে) দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সীমান্তের নাকৌড়ার উত্তরে ক্লাইলেহ অঞ্চল থেকে তিনটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রকেট হামলাও অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকালের দিকে আশকেলন শহরে তাদের রকেট আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে শত শত রকেট হামলা করা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিস্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত চলছে। শুক্রবারও বিমান হামলার পাশাপাশি কামানের গোলাও নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৯। নিহতদের মধ্যে ৩১টি শিশু ও ১৯ নারী রয়েছেন।

পাঁচদিন আগে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৮৩০ জনের মতো আহত হয়েছেন। উত্তর গাজার জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে হাজার হাজার গাজাবাসীকে।

এ যাবত কালের সবচেয়ে সহিংস রাত পার করার জানিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, সোমবার (১০ মে) থেকে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ হামলায় অন্তত ১২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় হাজার খানেক।

অন্যদিকে হামাসের রকেট হামলায় এখন পর্যন্ত আটজন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুই শিশু, একজন ভারতীয়, একজন বয়স্ক নারী ও এক ইসরায়েলি সেনাসদস্য রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন কয়েক ডজন।

আরো পড়ুন-এবার ফিলিস্তিনির হয়ে ইসরাইল রকেট ছুড়ল লেবানন

সম্প্রতি ফিলিস্তিনের গাজায় বোমা বর্ষণের পালটা প্রতিবাদে ইসরাইলে রকেট হামলা চালাল লেবানন।

এর আগে হামাস ইসরায়েলে সহস্রাধিক রকেট হামলা চালিয়েছিল। (খবরে এপির)

বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলের দিকে সরাসরি কমপক্ষে তিনটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

ইসরাইলের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, লেবানন থেকে তিনটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা গালীল উপকূলে ভূমধ্যসাগরে পতিত হয়।

তাদের ধারণা, লেবানন ভূখণ্ড থেকে তাদের শত্রু হিজবুল্লাহ এ হামলা চালিয়েছে। হামলা মোকাবেলায় গত তিনদিনে জরুরিভিত্তিতে নয় হাজার বাড়তি সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার থেকেই উত্তপ্ত ইসরাইল-ফিলিস্তিন। গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ১০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে হামাসের পাল্টা রকেট হামলায় এখন পর্যন্ত সাতজন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনেও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বোমা বর্ষণ অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় গাজার বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।

গত কয়েকদিনের টানা এই হামলায় ভূখণ্ডটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ জনে। নিহতদের মধ্যে ১৭ জন শিশু। আলজাজিরা জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর দফায় দফায় বিমান হামলায় ধংসস্তুপে পরিণত হয়েছে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডটি।

বৃহস্পতিবার সকালেও বোমা বর্ষণ অব্যাহত ছিল। আর এর মধ্যেই উদযাপনহীন রক্তাক্ত এক ঈদ পার করছেন ফিলিস্তিনিরা।

এদিকে বুধবার সারা রাত আর বৃস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর তীব্র বোমা হামলার বিষয়ে আলজাজিরার সাফওয়াত আল-কাহলাউত বলছেন,

‘গাজার বেশিরভাগ মানুষ সারা রাত জেগে ছিলেন। কিছুক্ষণ পরপরই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, আর তাতে কেঁপে উঠছে আশপাশের ভবনগুলো।’

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *